চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সৌদি জ্বালানি তেল জায়ান্ট আরামকো। এতে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা ১৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার হয়েছে। খবর এপি।
একসময় সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়েল কোম্পানি নামে পরিচিত ছিল আরামকো, পরে এর নাম বদল হয়। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে কোম্পানিটি আয় করেছে ১১ হাজার ১১০ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার থেকে খানিকটা কম। এছাড়া ওই সময় মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলার।
সম্প্রতি রিয়াদের তাদাউল স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন দাখিল করেছে আরামকো। সেখান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মূলত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাব এবং পরিশোধন মার্জিন দুর্বল হওয়ার কারণে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে বলে জানিয়েছে আরামকো।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আরামকোর মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ২০২৩ সালের একই সময়ে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ৯ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে যাওয়া এবং চীনের অর্থনীতি ধীর হওয়ার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী রয়েছে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
আরামকো জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে ২ হাজার ২৮ কোটি ডলার লভ্যাংশ ও ১ হাজার ৭৭ কোটি ডলার পারফরম্যান্স-ভিত্তিক লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারে কোম্পানিটি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরামকোর বেশির ভাগ শেয়ারই রয়েছে সৌদি সরকারের হাতে। এ কারণে যেকোনো পরিচালন সিদ্ধান্ত থেকে মুনাফা ও লভ্যাংশের প্রায় পুরোটাই সরকারের কাছে থাকে। মঙ্গলবার আরামকোর শেয়ার প্রতি লেনদেন হয়েছে ৭ ডলার ৩১ সেন্টে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ ৯ ডলার থেকে অনেকটাই কম।
বর্তমানে আরামকোর বাজারমূল্য ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। অ্যাপল, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের পর এটি বিশ্বের ষষ্ঠ দামি কোম্পানি।
২০২৩ সালে আরামকো ১২ হাজার ১০০ কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করে। আগে ২০২২ সালে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করলেও জ্বালানি তেলের দামে পতন ঘটলে পরের বছর তা কমে যায়।